বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান ক্যান্সারে (সাইনোভিয়াল সারকোমা) আক্রান্ত। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মেহেদির পক্ষে সে টাকা যোগাড় করা সম্ভব না। আর এ জন্য তাঁর পাশে দাড়িয়েছে তাঁর সহপাঠীরা।
মেহেদির চিকিৎসায় আর্থিকভাবে অংশগ্রহন করতে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল কাউছার রুমকি বিক্রি করছেন তাঁর আঁকা চিত্রকর্ম। চিত্রকর্ম বিক্রয়মূল্যের ৯০ ভাগ ও বই বিক্রির পুরোটাই মেহেদির চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
‘ভাঙ্গা গড়ার শব্দ’ শিরোনামে কবিতার বইটি তারুণ্য প্রকাশনী থেকে ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ মনি বইটি সম্পাদনা করেছেন। এর শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। বইটির সমন্বয়ক ও সম্পাদক সোহাগ মনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বেশ কিছু বই বিক্রি করেছি। মেহেদিকে বাঁচাতে আমাদের এ প্রয়াস অব্যাহত আছে। আমরা আশা করছি, বইপ্রেমীরা আমাদের বইটি কিনে মেহেদির চিকিৎসা খরচে অবদান রাখবে। বইটি কিনতে (০১৬২১৮৯২৫৭৪) এই নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানাচ্ছি।
বইটির অন্যান্য লেখকরা হলেন, জান্নাতুন নিশা, নুহাশ রহমান, ফাতেমা রহিম রিন্স, রফিক উদ্দীন, সানজিদা আক্তার অপর্ণা, ইমতিয়াজ হাসান রিফাত, ওয়াফা আক্তার রিমু, চৌধুরী মাসাবিহ, হুমায়রা কবির ও আঞ্জুমান শীমু।
চিত্রকর্মের ব্যাপারে জান্নাতুল কাউছার রুমকি বলেন, এই কোয়ারেন্টাইনে ঘরে বসে মনের বশেই নিজের জন্য ছবি গুলা এঁকেছি। যখন শুনলাম তানিন অসুস্থ, তখন থেকেই মনে হচ্ছিলো আমার কিছু একটা করা উচিত। তারপর ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ মাথায় এলো আমি যেই ছবি গুলো এঁকেছি সেসব নিয়েই তো কিছু করতে পারি। রুমকি আরো বলেন, এর আগেও যখন মেহেদি অসুস্থ হয়েছিলো তখন ওর জন্য কিছু করতে না পারার কারণে নিজের মধ্যে খারাপ লাগা কাজ করেছিলো। তাই এইবার আমি মেহেদির পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার চিত্রকর্মগুলো বিক্রির টাকা থেকে ৯০ শতাংশ ব্যয় হবে তানিনের জন্য। ফেসবুক পেইজ ‘আয়নাঘর’ থেকে যেকেউ আমার চিত্রকর্ম কিনতে পারবে।
এর আগেও ২০১৮ সালে মেহেদি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগেছিলেন। পরে তিনি সুস্থও হন। কিন্তু সম্পতি আবার তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সারে ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর